Home / মিডিয়া / সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক ডাকসু ভিপি ফেরদৌস কোরেশী আর নেই

সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক ডাকসু ভিপি ফেরদৌস কোরেশী আর নেই

প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) চেয়ারম্যান ডাকসুর সাবেক ভিপি ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী মারা গেছেন। তার স্ত্রী নিলুফার পান্না কোরেশী টোটালনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২০১৫ সালের অক্টোবরে একবার ‘স্ট্রোক’ করার পর থেকেই একরকম অসুস্থ জীবনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর ৭১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে কোরেশী | Amader Songbad 24

ঢাকাঃ সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক ডাকসুর ভিপি ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত জটিলতায় মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।কোরেশীর সহধর্মিনী নিলুফার পান্না কুরেশী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘মেয়ের বাসায় আজ সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে উনি স্ট্রোকে মারা গেছেন।’

নিলুফার পান্না জানান, দীর্ঘ ৫ বছর ধরে তার স্বামী বার্ধক্যজনিত নানা রোগে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ২০১৫ সালে অক্টোবরে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ার পর থেকে ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী নানা জটিলতায় এক রকম অসুস্থ জীবনের মধ্যে দিনযাপন করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

সোমবার আসরের পর জাতীয় প্রেস ক্লাবে জানাজা শেষে ফেনীর দাগুনভুঁইয়ায় গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে

অনেক দিন ধরেই ভুগছিলেন প্রথিতযশা সম্পাদক-সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ড. ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী। শরীর-মন ভেঙে পড়েছিল অনেক আগেই । বিছানাই ছিল ঠিকানা। ইশারা ইঙ্গিতে কথাবার্তা বলতেন। স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে পিজি হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালে দেখতে গিয়েছিলাম বেশ আগে। পরম স্নেহে হাত চেপে ধরে অনেক কথাই বললেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন, সেই সামর্থ্যও ছিল না তার পরিবারের। আর্থিক টানাপড়েনে নিয়মিত বড় হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে পারেননি প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের (পিডিপি) এই চেয়ারম্যান। অবশেষে আজ চলে গেলেন না ফেরা দেশে। আজ সোমবার দুপুর ১টায় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টস্স্থ মেয়ের বাসায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি ফেনীর দাগণভূইয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে কামাল আতাতুর্ক স্কুল মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে দাফন করা হবে। ৬০-এর দশকের মেধাবী ছাত্রনেতা ড. কোরেশী তৎকালীন অবিভক্ত পাকিস্তান ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। এরপর তিনি ১৯৬১ সালে ডাকুসর ভিপিও নির্বাচিত হন। জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশে তার অবদান ছিল অসামান্য। ৬ দফা ও ১১ দফাভিত্তিক ছাত্র ও গণআন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তাঞ্চল থেকে মুক্তিযুদ্ধের মুখপাত্র হিসেবে দেশবাংলা পত্রিকা বের করেন ড. কোরেশী। ওই সময় থেকেই তিনি পত্রিকাটির সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি গঠন করলে ওই দলের প্রথম যুগ্ম মহাসচিবও ছিলেন ড. কোরেশী। ২০০৭ সালে তিনি প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি) দল গঠন করেন। আমৃত্যু তিনি ওই দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন।২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর বাসায় ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। পরে বহুদিন ছিলেন পিজিতে। আর্থিক টানাপড়েনের কারণে শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হলেই বাসায় ফেরেন আলোচিত এই রাজনীতিবিদ। এরপর বাসায় বিছানায় শুয়ে কেটেছে এক সময়ের তুখোড় এই ছাত্রনেতার। ঘনিষ্ঠরা জানেন, ড. কোরেশীর মতো নীতিবান রাজনৈতিক নেতার আজ বড় অভাব। তার মতো রাজনীতিবিদ অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি। আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে যে ছাত্রনেতাকে ‘দার্শনিক’ হিসেবে বিশ্বের গণমাধ্যম আখ্যা দিত, সেই ডাকসুর ভিপি চলে গেলেন নীরবে। প্রথিতযশা সাংবাদিক ও সম্পাদক ড. ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন কয়েকজন সম্পাদক। তার সুচিকিৎসার জন্য জরুরি সহযোগিতা চেয়ে বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন দি নিউজ টু ডের সাবেক সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এস এম বাহাউদ্দিন, দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রধান সম্পাদক জাকারিয়া চৌধুরী ও দৈনিক গ্রীন ওয়াচের সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*