Home / সম্পাদকীয় / মহানায়কের জন্মদিনে খোলা চিঠি

মহানায়কের জন্মদিনে খোলা চিঠি

ঢাকাঃ প্রিয় বঙ্গবন্ধু, আজ আপনার জন্মদিন। আপনার ১০১ তম জন্মদিনে অভিনন্দন রইলো। আপনার আদরের ছোট ছেলে রাসেলের প্রায় সমান বয়সী আমার ছেলের সাথে সাম্প্রতিক সময়ে আমার কথোপকথন দিয়ে চিঠিটা শুরু করছি। গত ৩১ ডিসেম্বর আমরা পরিবারের সদস্যরা মহাকবি মাইকেলের বাড়ি ঘুরতে সাগরদাড়ি গিয়েছিলাম। মুজিববর্ষ পালন উপলক্ষে সেখানে আপনার বড় একটা ছবি টাঙ্গানো ছিলো। ফেরার পথে গাড়ির মধ্যে আমার ছেলে হঠাৎ করে আমাকে জানতে চাইলো বাবা তোমার জন্মসাল কতো? আমি ১৯৭৭ সাল বলে জবাব দিলাম। তারপর বললো, বঙ্গবন্ধু মারা যান কোন সালে? আমি বললাম, ১৯৭৫। তখন ও আমাকে বললো, বাবা তুমি অনেক আনলাকি, কারন তুমি বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকাকালীন দুনিয়ায় আসোনি। এটলিস্ট বলতে তো পারতে, বঙ্গবন্ধুর সময় তুমিও জন্মেছিলে। সাথে থাকা আমার বড় ভাইয়ার কাছ থেকে সে তার জন্মসাল জানার পর তাকে রীতিমতো আলাদা সম্মান করা শুরু করলো এবং বললো, বড়চাচ্চু তুমি অনেক বেশী ভাগ্যবান। তুমি বঙ্গবন্ধুর সময়ের মানুষ। প্রিয় বঙ্গবন্ধু,আমার ১১ বছর বয়সী ছেলে আপনার জীবিত থাকার সময় আমার জন্ম না হওয়াকে দূর্ভাগ্য হিসেবে বুঝতে শিখেছে। আর যারা জন্মেছিলো সেই সময়ের মধ্যে তাদেরকে ভাগ্যবান হিসেবে দেখছে। আমরা জাতি হিসেবে আপনাকে হারিয়ে তাহলে কতোটা দূর্ভাগা, সেটা আপনি ওপারে বসে নিশ্চয়ই দেখেছেন। প্রিয় বঙ্গবন্ধু, আপনি দুনিয়ার বুকে বাঙ্গালী জাতির একটি স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন, যা আপনার দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফসল। আপনার প্রতি গোটা বাঙ্গালী জাতি চিরকৃতজ্ঞ। আজ দুনিয়ার বুকে বাঙ্গালী জাতির একমাত্র স্বাধীনরাষ্ট্র তার ৫০ বছর উদযাপন করছে, যার মূল স্থপতি বঙ্গবন্ধু আপনি। প্রিয় বঙ্গবন্ধু, আপনি আপনার হাসুকে সবসময় শুভকামনায় রাখবেন, তিনি যেন ‘শেখের বেটি’ নামটির মর্যাদা ধরে রাখতে পারেন। যেভাবে তিনি ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের অহংবোধ দুমড়ে মুচড়ে তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে ৭১ এর ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা বোনদের সম্ভ্রমহানির বদলা নিয়েছেন, যেভাবে তিনি ৭৫ এর সেই হিংস্রতম হায়েনাদের বিচারের সামনে এনে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়েছেন তা একমাত্র শেখের বেটি’র পক্ষেই সম্ভব। প্রিয় বঙ্গবন্ধু, ১৯৭৫ সালে আপনি বাকশাল গঠনের মাধ্যমে যখন নতুন বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন, সেদিন কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও ষড়যন্ত্রকারীরা এক হয়ে এটার বিরোধিতা করেছিলো। জাতির সামনে বানোয়াট ব্যাখ্যা দিয়ে বাকশালকে একটা অভিশপ্ত নামে পরিনত করে ফেলেছিলো। অথচ গত কয়েক দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশে বাকশালের কর্মসূচীর প্রায় কাছাকাছি সবকিছুই তাদের নতুন ও বাম সরকারগুলো গ্রহণ করেছে। অথচ আপনাকে এদেশের বামপন্থীদের একটা বড় অংশ সেদিন একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ধুঁয়া তুলে আপনাকে বিতর্কিত করে তোলে। প্রিয় বঙ্গবন্ধু, আপনার জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি একই সূত্রে গাঁথা। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এ’দুটো যে আলাদা করা যায়না। আপনি জেনে খুশী হবেন, ১৯৭১ সালের ইংরেজি ক্যালেন্ডার এবং বাংলাদেশের ৫০ বছর ২০২১ সালের ইংরেজি ক্যালেন্ডারও হুবহু এক। সেদিন বাঙ্গালী যেমন আপনার অনুপস্থিতিতেও আপনার নামে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলো, আজও এদেশের মানুষ আপনার আদর্শের অনুপ্রেরণায় একের পর এক বাঁধা পেরিয়ে বিশ্বের বুকে লাল সবুজের পতাকাকে উড়িয়ে চলেছে। প্রিয় বঙ্গবন্ধু, আপনি আমাদের ক্ষমা করবেন। আমরা আপনাকে একটা দীর্ঘসময় অসম্মানিত করেছি। এদেশের কিছু প্রতিক্রিয়াশীল পাকিস্তানপন্থী ইয়াহিয়ার প্রেতাত্মাদের প্ররোচনায় আপনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে রেখেছিলো। কিন্তু নতুন প্রজন্ম আজ আপনাকে জানে, বোঝে এবং হৃদয়ে ধারণ করে। বাংলাদেশ আর বঙ্গবন্ধু যে আলাদা সত্ত্বা নয়, তা এ প্রজন্ম জানে। প্রিয় বঙ্গবন্ধু, আপনার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে অনেকেই আপনার ছবি লাগিয়ে আপনার প্রতি ভালোবাসার কথা জানাবে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু আপনি ১৯৭৫ ভুলে যাবেন না। মোশতাকের মতো বহু নব্য মোশতাক এখন ক্রিয়াশীল। তাই, সবার শ্রদ্ধা জানানোকে আপনি এক পাল্লায় মাপবেন না। অনেকেই আছেন, যারা আপনার নাম ব্যবহার করে আপনার প্রিয় হাসু’র আশেপাশে থেকে আপনারই গড়া বাংলাদেশের জয়যাত্রায় বাঁধা দিতে চায়। তাদেরকে আপনি ক্ষমা করবেন না বঙ্গবন্ধু। প্রিয় বঙ্গবন্ধু, আপনাকে আবারও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই।

লেখক ঃ সাইফুল আলম বাপ্পি এর ফেসবুক টাইম লাইন থেকে নেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*