Home / সরকার / নারীকে নিকাহ রেজিষ্ট্রার করতে উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করবে মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা

নারীকে নিকাহ রেজিষ্ট্রার করতে উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করবে মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা

ঢাকাঃ বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা তিনজন নারীকে নিকাহ রেজিষ্ট্রার পদে নিয়োগ প্রদান করতে উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করবে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে দিনাজপুর জেলার ফুরবাড়িয়া পৌরসভার ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে নিকাহ রেজিষ্ট্রার পদে আয়েশা সিদ্দিকাসহ তিনজন নারী আবেদন করেন। তিনজন নারীর তালিকাসহ আইন মন্ত্রানালয়ে অনুমোদনের জন্য প্রেরিত হলে আইন মন্ত্রনালয় বাংলাদেশের সামাজিত, বাস্তব ও ধর্মীয় দৃষ্টকোনের অজুহাত দেখিয়ে এই প্রস্তাবনা বাতিল করে দেয়। পরে আয়েশা সিদ্ধিকা আইন মন্ত্রনালয়ের এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোটে একটি রিট দায়ের করেন। চুড়ান্ত শুনানী শেষে হাইকোট বিভাগ আবেদনকারীর আবেদন খারিজ করে আইন মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। রায়ে বলা হয়েছে বাংলাদেশের সামাজিত, বাস্তব ও ধর্মীয় কারনে একজন নারীর পক্ষে নিকাহ রেজিষ্ট্রার পদে কর্ম করা সম্ভব নয়। আদালতের দেওয়া এই রায়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার চেয়ারম্যান এডভোকেট সিগমা হুদা, কার্যকরী চেয়ারম্যান তারিক হায়দার, মহাসচিব এডভোকেট জাহানারা বেগম ও নির্বাহী পরিচালক জালাল উদ্দিন মর্মাহত ও সংক্ষুদ্ধ হয়েছেন। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জালাল উদ্দিন বলেন এই রায় বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদের সম্পূর্ন পরিপস্থি। সংবিধানের ২৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে। ২৯ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ ও জন্মস্থানের কারনে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের অযোগ্য হবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তার প্রতি কোন প্রকার বৈষম্য করা যাবে না। যেহেতু নিকাহ রেজিষ্ট্রার পদটি রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা পুরুষদের জন্য সংরক্ষিত করা হয় নাই সেইহেতু আবেদনকারী নারী বা বাংলাদেশের যে কোন নারী এমনকি যে কোন ধর্মের নারী উক্ত পদ লাভের অধিকারী। শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারনে এই পদ লাভের অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা সংবিধানের পরিপস্থি। এই রায় শুধু সংবিধানের পরিপস্থি নয়, এই রায় মনিবাধিকারের সার্বজর্নিন ঘোষনা, নারীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্য বিলুপ নীতি, নেইজিং ঘোষনা ও বাংলাদেশের নারী নীতির পরিপন্থি। রায়ে বলা হয়েছে প্রকৃতিকভাবে একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক নারী মাসের একটি সময় আসে যখন নারী মসজিদে যেতে পারে না, অথচ বিয়ে বেজিষ্ট্রেশনের জন্য সমজিদে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয় আইনও নয়। বিয়ে রেজিষ্ট্রেশন একটি রাষ্ট্রীয় আইনী দায়িত্ব, ধর্মীয় দায়িত্ব নয় যদিও রায়ে বলা হয় বিয়ে শুধু সামাজিক অনুষ্ঠ্রান নয় ধর্শীয় অনুষ্ঠানও বটে। এই রায়ে বলা হয় নিকাহ রেজিষ্ট্রারকে রাতে বা বৃষ্ঠির মধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেতে হয় কখনো কখনো নদী পাড় হতে হয়। তিনি প্রশ্ন করেন বাংলাদেশে এমন কোন নারী কি আছেন যিনি কোনদিন রাতে বা বৃষ্টির মধ্যে কোথাও যায়নি বা নদী পাড় হয়নি? বাংলাদেশের নারীরা যেখানে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দক্ষতার সাথে কাজ করছে, কোথায় নেই নারীরা? সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী , বিমান বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক, মন্ত্রী, আমলা সর্ব ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে সেই ক্ষেত্রে শুধুমাত্র রাত ও বৃষ্ঠির অনুহাত দেখিয়ে নারীকে নিকাহ রেজিষ্ঠার পদে কর্মের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা দুঃখজনক। এই রায়ে কার্যত নারী অধিকারকে সংকুচিত করা হয়েছে এবং নারীর অগ্রযাত্রাকে বাঁধাগ্রস্থ করা হয়েছে। সেইসাথে এই রায় টেকস উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্থ করবে। বিজ্ঞ উচ্চ আদালতকে এই রায় পূর্নবিবেচনা করে সংবিধান প্রদত্ত নারী পুরুষ সম অধিকারের ভিত্তিতে রায় প্রদানের অনুরোধ জানাচ্ছে। অন্যথায় সংস্থা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল দায়ের করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*