Home / সম্পাদকীয় / দেশে সরকারি দল নেই বিরোধী দলও নেই

দেশে সরকারি দল নেই বিরোধী দলও নেই

ঢাকাঃ বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে রাজনীতি বলতে কিছু নেই। সরকার ও রাষ্ট্র এখন একাকার। রাজনীতি নিয়ে আলোচনা            করারও কিছু নেই। রাজনৈতিক কোনো চ্যালেঞ্জও নেই। এখন সরকারি দলও নেই। সরকারও প্রধানমন্ত্রীর মুখাপেক্ষী। বিরোধী দলও দেশে নেই। রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষেরও আগ্রহ নেই। দেশের মানুষ এখন নানা সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। করোনাকালে নিম্ন আয়ের মানুষ খুবই কষ্টে আছে। রাজনীতি নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবার সময়ও তাদের নেই। তাই গত দুই বছরে সরকার বড় ধরনের কোনো সংকটেও নেই। গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে ফোনালাপে এসব কথা বলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, গত দুই বছরে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অর্থনৈতিক। কভিড-১৯-এর কারণে গত এক বছর দেশ নানা সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। কিন্তু একটা ভালো সংবাদ হচ্ছে আমাদের রেমিট্যান্স প্রবাহ অক্ষুণœ ছিল। রপ্তানি আয়েও কোনো রকমের ঝুঁকি পড়েনি।

মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, একটি সমস্যা হয়েছে মেগা প্রজেক্টগুলোতে। আমাদের মেগা প্রজেক্টে প্রচুর বিনিয়োগ করা হয়েছে। এগুলো এখন মন্থরগতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। অনেক প্রজেক্ট ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। সরকারের মন্ত্রীরা প্রজেক্ট বাস্তবায়নে নানা দিনক্ষণের কথা উল্লেখ করলেও তারাই আবার তারিখ পাল্টাচ্ছেন। মন্ত্রীদের কথায় আস্থা রাখা যাচ্ছে না। এই প্রজেক্টগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়িত হলে আমাদের অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়ত। কিন্তু ক্রমেই এসব প্রজেক্ট প্রলম্বিত হচ্ছে। লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি, অনাচারসহ নানা ধরনের অপরাধ বেড়েছে। এগুলো গণমাধ্যমেও এসেছে। অধিকাংশ ঘটনার সঙ্গে সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা জড়িত। ক্ষমতার প্রশ্রয় না পেলে অপরাধীরা সাজা পায়। কিন্তু ক্ষমতার প্রশ্রয় থাকার কারণে আইনের ফাঁকফোকরে অপরাধীরা বেরিয়ে যাচ্ছে। তাদের ব্যাপারে রাজনৈতিক চাপ থাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এ বিষয়গুলোকে কেউ কেউ বলছেন, বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তিনি আরও বলেন, ৫০ বছর ধরেই দেখছি, অপরাধীদের একটি যোগসূত্র থাকে ক্ষমতার সঙ্গে। সেই ক্ষমতাসহ নানা ধরনের সংযোগ থাকায় তারা নানা ধরনের অপরাধ করে যাচ্ছে। সেটা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হোক বা অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারি হোক। এর সঙ্গে ক্ষমতার নিম্ন থেকে উচ্চস্তরের অনেকেই জড়িত। রাষ্ট্র এদের বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা নিতে পারছে না। মাঝেমধ্যে দু-একটি অপরাধ সংক্রান্ত ঘটনার ব্যবস্থা নিলেও তা অনেকটা আইওয়াশ বলে মনে করেন অনেকেই। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সক্ষমতা হারাচ্ছে। এটা একটা আশঙ্কার বিষয়ও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*