Home / বিশ্ব / চীনের অর্থায়নে হবে তিস্তা প্রকল্পঃ চ্যালেঞ্জের মুখে ভারত

চীনের অর্থায়নে হবে তিস্তা প্রকল্পঃ চ্যালেঞ্জের মুখে ভারত

চীন, নেপাল ও পাকিস্তানের ত্রিমুখী চাপে চিন্তিত হয়ে পড়েছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে ভারত এখন বিশেষ মনোযোগী। সম্প্রতি চীন ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়নের মধ্যে তিস্তা নদীর উপর একটি প্রকল্পের জন্য চীনের কাছ থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ।

তিস্তা নদীর পানি বন্টন নিয়ে অমীমাংসিত ইস্যু রয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে।
ভারত থেকে বাংলাদেশে যে ৫৪টি নদী প্রবেশ করেছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে তিস্তা। এটি ভারতের সোলামো লেক থেকে উৎপন্ন হওয়ার পর সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রংপুর জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। পরে এটি চিলমারির কাছে ব্রহ্মপুত্র নদের সাথে মিলিত হয়েছে।
Image may contain: sky, cloud, outdoor, water and nature
তিস্তা নদীর পানি বন্টন নিয়ে অমীমাংসিত ইস্যু রয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে।
তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশে নদীটির বিস্তৃত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুজ্জীবনে একটি প্রকল্প হাতে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ‘তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট এন্ড রেস্টোরেশন’ নামে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে আনুমানিক আট হাজার কোটি টাকা।

নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশ চীনের অর্থায়নে তিস্তার বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত অংশে একটি ‘তিস্তা রিভার কমপ্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট এন্ড রেস্টোরেশন’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সেই প্রকল্পে কিভাবে শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখা যায় এবং নদীর নভ্যতা ফিরিয়ে আনা যায় সেই সকল কাজ করা হবে। ভারতের সাথে যেহেতু বাংলাদেশের অনেক বছর ধরে তিস্তা নদীর পানি বন্টন নিয়ে সমস্যা এবং বর্ষা মৌসুমে বাধ খুলে দেয়া সহ নানান জটিলতার কারনে এখনো পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান হয়নি তখন বাংলাদেশ চীনের সাহায্যে নদীগর্ভে ড্রেজিং করা, রিভেটমেন্ট বা পাড় সংস্কার ও বাধানো এবং ভূমি পুনরুদ্ধার।এছাড়া বন্যা বাঁধ মেরামতেরও পরিকল্পনা গ্রহণ করছে বাংলাদেশ যাতে বর্ষা মৌসুমে বন্যা হতে বাংলাদেশ মুক্তি পায় এবং শুকনো মৌসুমে পানি ধরে রাখতে পারে।তিস্তা নদীর পানি বাংলাদেশের ভিতর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয় এখন বাংলাদেশ যদি বাংলাদেশের অংশে তিস্তা নদীর উপর বাধ তৈরি করে সেক্ষেত্রে ভারতের বর্ষা মৌসুমে পানি ছাড়ার আর সুযোগ থাকবে না তখন ভারতে বন্যা দেখা দিবে।

তিস্তা প্রকল্পের কাজ চীনকে দিয়ে করাবে বাংলাদেশ!
শুক্রবার দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ভারতের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক শুভজিৎ রায় লিখেছেন, ‘তিস্তার পানি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ আছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা এমন সময়ে এসেছে যখন লাদাখ সীমান্ত নিয়ে চীন ও ভারতের সম্পর্ক চরম পর্যায়ে আছে।’

সব দিক বিবেচনা করে সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শিংলা বাংলাদেশ সফর করেন তার মূল উদ্দেশ্য ছিলো বাংলাদেশ এই প্রকল্প হতে যেনো হাতে না নেয় কিন্তু উনি তিন বার প্রধানমন্ত্রী সাথে দেখা করতে চেয়েও চতুর্থ বার বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী উনার সাথে দেখা করার শিডিউল দেন। এতেই বুঝা যায় তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশ আর আকুতি জানাতে আগ্রহী না ভারতের প্রতি।তিস্তা নিয়ে ভারত বাংলাদেশকে অনেক আশা দিলেও আজ পর্যন্ত তারা তাদের কথা রাখতে পারেনি উল্টো তিস্তার নদীর ভারতের অংশে ভারত আরো বাধ তৈরি করে যার ফলে পানির পরিমান কমে যায় এবং বাংলাদেশের পাওয়ানা অংশটুকুও দেয় না তারা।বর্ষা মৌসুমে যখন তিস্তার পানি প্রচুর থাকে বা ভারতের অংশে বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তখন তারা বাধ খুলে দেয় এতে করে বাংলাদেশে বন্যা সৃষ্টি হয় যার ফলে দেশের হাজার কোটি টাকা ক্ষতি সাথে গৃহহীন হয়ে পড়ে হাজারো মানুষ।চীনের সাথে সম্পর্ক রেখে বাংলাদেশ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারলে তা হবে বাংলাদেশের জন্য একটি মাইলফলক। চীন বাংলাদেশকে এই প্রকল্পের অর্থ ঋণ হিসেবে দিবে এবং প্রাথমিক খরচ ধরা হয়েছে আট হাজার কোটি টাকা।

চীনের সহায়তায় তিস্তার নদীর জীবনরক্ষার প্রকল্পে কী থাকছে? - BBC News বাংলা
ভারতীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই দেশের মধ্যে তিস্তা প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি হলেও পরের বছর পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগে এটি নিয়ে শান্তিপূর্ণ আলোচনা কঠিন হবে। দিল্লি এখন প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় যা করতে পারে তা হলো অন্যান্য বিষয়গুলো সমাধান করা।
বাংলাদেশকে দেওয়া আশ্বাস সময়সীমার মধ্যে বাস্তবে রূপ দিতে পারাটাও ভারতের পক্ষে বেশ চ্যালেঞ্জিং।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*