Home / রাজনীতি / এবার মূর্তি ইস্যুতে পিছু হটছে হেফাজত

এবার মূর্তি ইস্যুতে পিছু হটছে হেফাজত

ঢাকাঃ মূর্তি ইস্যুতে কি হেফাজতে ইসলাম পিছু হটছে? না তাদের সাথে সরকারের সমঝোতা হয়েছে? যা-ই হোক না কেন, হেফাজত যে এবার মাঠের আন্দোলনে যাচ্ছে না তা মোটামুটি নিশ্চিত৷ তারা এখন তাদের বিরুদ্ধে মামলা নিয়েই বেশি ভাবছে৷

বুধবার হেফাজতে ইসলামের জরুরি সংবাদ সম্মেলন ছিলো হাটহাজারী মাদ্রাসায়৷ কিন্তু সেখানে সংগঠনের আমির মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী মূর্তি ও ভাস্কর্য নিয়ে একটি কথাও বলেননি৷ সংবাদ সম্মেলনের পর তাদের প্রেস রিলিজেও এ নিয়ে কোনো কথা নেই৷  শুধু দাবি করা হয়েছে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে৷ তিনি বলেন, হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে যে হত্যা মামলা হয়েছে তা মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্রমূলক৷ হেফাজত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আরো যেসব মামলা রয়েছে তা তারা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন৷

হাটহাজারী মাদ্রাসায় ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক জানান, বাবুনগরী লিখিত বক্তব্যের বাইরে কোনো কথা বলেননি৷ সাংবাদিকরাও মূর্তি বা ভাস্কর্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন করেননি৷ হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজি বলেন, ‘‘সংবাদ সম্মেলন ছিলো আল্লামী শফীর মৃত্যু ও মামলা নিয়ে তাই এর বাইরে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলিনি৷’’

জানা গেছে, আপতত মূর্তি ও ভাস্কর্য ইস্যুতে চুপ থাকাকে হেফাজত শ্রেয় বলে মনে করছে৷ তারা এখন তাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো সামলানোই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন৷ তবে জাকারিয়া নোমান ফয়েজি বলেন, ‘‘আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সরে যাইনি৷ আমরা মনে করি ভাস্কর্য ও মূর্তি এক৷ এগুলো সরানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি করেছি৷ সরকার সেটা করবে৷ ভাঙা আমাদের কাজ নয়৷’’

হেফাজাতের যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার হুমকি দেন৷ পরে বাবুগনরীও একই কথা বলেন৷ ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করীমও ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলতে বলেন৷ কিন্তু হেফাজতের পাশ থেকে এখন অনেকেই সরে গেছেন৷ ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘‘এই ইস্যুতে আমরা কখনোই আন্দোলনের কথা বলিনি৷ এটা ধর্মীয় ইস্যু, রাজনৈতিক নয়৷ আমাদের কাজ ছিল মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি সরকারকে জানানো৷ সেটা জানিয়েছি৷ কারণ ওই ভাস্কর্যের দুই পাশে দুইটি মসজিদ৷’’ তিনি আরো বলেন, এখানে হেফাজতের সাথে এক হয়ে আন্দোলন করার কোনো বিষয় নেই৷

সরকারে বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, এবার বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যুতে সরকার কোনো ছাড় দেবে না৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও হেফাজত নেতাদের সাথে বৈঠকে বলে দিয়েছেন, সংবিধানের বাইরে কিছু হবে না৷ আর সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান, হেফাজতকে আর ছাড় দেয়া হবে না৷ হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে নতুন মামলার পাশাপাশি পুরনো মামলা সক্রিয় হয়েছে৷ নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘‘কেউ অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধে তো মামলা হবেই৷ তারা অপরাধ করেছে মামলা হচ্ছে৷ আর এবার হেফাজত যে দাবি তুলেছিল তা জনগন প্রত্যাখ্যান করেছে৷’’

হেফাজত নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু সেই দেখা এখনও মেলেনি৷ আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে দাবি পূরণের কোনো ইঙ্গিতও তারা পায়নি৷ তবে জাকারিয়া নোমান ফয়েজি বলেন, ‘‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলাপ আলোচনা চলছে৷ এক সপ্তাহের মধ্যেই একটি ফল পাওয়া যাবে আশা করি৷’’

হেফাজত কি সরকারের সাথে সমঝোতা করেছে? এমন প্রশ্নের জবাবে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘কেউ সমঝোতা করে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে বাসায় থাকলে তা কি প্রকাশ করে?’’

আর নোমান ফয়েজি বলেন, ‘‘আমরা আমাদের অবস্থানে অনঢ় আছি৷ আমরা মনে করি ভাস্কর্য এবং মূর্তি একই জিনিস৷ আমরা সরকারের কাছে তাই অপসারণের দাবি করছি৷ কিন্তু সরকারের মধ্যেই একটি মহল করে সরকার ও আলেম ওলামাদের মুখোমুখি করতে চাইছে৷’’

হেফাজত নেতা মামুনুল হক এখন অনেকটাই কোনঠাসা৷ মাওলানা শফী হত্যা মামলায় তিনি আসামি বলে ওয়াজ মাহফিলেও তেমন যেতে পারছেন না৷ ২৫ ডিসেম্বর সিলেটের একটি মাদ্রাসায় তার ওয়াজ করতে যাওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসন অনুমতি দেয়নি৷ অন্যদিকে হেফাজত থেকে যে ৬১ জনকে বের করে দেয়া হয়েছে তারাও সংগঠিত হচ্ছেন৷ তাদের নিয়ন্ত্রণেও বেশ কিছু কওমী মাদ্রাসা আছে৷ আর শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের শো ডাউন হেফাজতকে দুর্বল করে ফেলেছে৷ সব মিলিয়ে হেফাজত আসলে এখন সরকারের কাছে মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য তদবির করছে বলে কেউ কেউ বলছেন৷

তবে জাকারিয়া নোমান ফয়েজি বলেন, ‘‘সরকার আমাদের কাছে সময় চেয়েছে, আমরা সরকারকে সময় দিয়েছি৷ তবে দাবি না মানলে আমরা কী করব সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি৷’’ আর খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘‘হেফাজতকে আমরা সঠিক পথে আনার চেষ্টা করছি৷’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*