Home / সর্বশেষ খবর / আমনের বাম্পার ফলনে মাতোয়ারা হেমন্তের হাওয়া

আমনের বাম্পার ফলনে মাতোয়ারা হেমন্তের হাওয়া

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ সারাদেশে ফসলের মাঠগুলোতে আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ধুম লেগেছে। আসছে শীতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে শুরুর মুখে এবারের পয়লা অগ্রহায়ণে নবান্ন উৎসব পালন করা হয়নি। প্রতিবছরের মতো নবান্ন উৎসবের মধ্য দিয়ে ধান কাটা শুরু করতে না পারলেও ঘরে বসে নেই কৃষকরা। এবার বাম্পার ফলনের কারণে এখন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। মাঠের ধান কেটে আঁটি বেঁধে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। বাসা-বাড়ির উঠানে চলছে আমন ধান মাড়াইয়ের কাজ। এসব নিয়ে কৃষকের যেমন ব্যস্ততা, তেমনি আনন্দও প্রচুর।

শুক্রবার (২০ নভেম্বর) কুমিল্লার সদর উপজেলার বিবির বাজার সীমান্ত এলাকা এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার ধনেশ্বরী, মহেশপুর, বানাশুয়াসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠজুড়ে সোনালি ধান। যেন পাকা ধানের সোনালি কার্পেট ছড়ানো। বাতাসে ভাসছে ধানের মিষ্টি সুবাস। সব জমির ধান এখনো সম্পূর্ণ পাকেনি। যেসব জমির ধান পেকেছে, চাষিরা সেই জমির ধান আগে কাটছেন। অনেক জমিতে জমে আছে পানি। এই পানিতে দাঁড়িয়েই চলছে ধান কাটা। দুপুরের পরপরই কাটা ধান মাথায় করে নির্ধারিত স্থানে জমা করা হচ্ছে। সেখান থেকে আঁটি বেঁধে কাঁধে, মাথায় কিংবা যন্ত্রচালিত গাড়িতে মাড়াইয়ের স্থানে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে মাড়াই শেষে শুকানোর পর বস্তাভর্তি ধান চলে যাচ্ছে কৃষকের বাড়িতে।

মাঠের কৃষকরা জানান, কয়েক দফায় বৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে আমন ধান চাষে ব্যাঘাত ঘটলেও এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়াও ধান কাটার পর এই জমিগুলোতে শীতের সবজির আবাদ করা হয়। তবে কয়েক দিন আগে সাগরের নিম্নচাপে ঝড় ও অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কিছু জমিতে ধানের ক্ষতি হয়েছে। তারপরও সবকিছু মিলিয়ে এবারে মাঠে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে।



কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার মহেশপুরের বাসিন্দা কৃষক মোকলেছুর রহমান জানান, করোনার মধ্যে শ্রমিক সংকট থাকলেও ৮ কানি জমিতে তিনি আমন ধান রোপণ করেছেন। ধানের বাম্পার ফলনে তিনি খুশি। তবে নিম্নচাপে ঝড় ও অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কিছু জমির ধান শুয়ে গেছে। যার কারণে ওই জমিগুলোর ধান কাটতে শ্রমিক বেশি লাগছে। এছাড়া পোকা ও ইঁদুর কিছু ধানের ক্ষতি করেছে।

অন্যদিকে একই এলাকার দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি ৫ কানি জমিতে আমনের চাষ করেছেন। তার জমিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান হয়েছে। তবে তার জমিতে এখনও পানি জমে আছে। পানির মধ্যেই ধান কাটছেন শ্রমিক দিয়ে। জমিতে পানি থাকায় ইঁদুর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে।



কুমিল্লা সদরের বিবির বাবার এলাকার কৃষক মিজানুর রহমান জানান, ৭/৮ কানি জমিতে তিনি এবার আমন ধানের চাষ করেছেন। করোনায় শ্রমিকের পারিশ্রমিক বেশি থাকায় খরচ বেশি পড়েছে। তারপরও তিনি খুশি। কারণ তার সবকয়টি জমিতে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। তার এই জমিগুলোতে শীতের সবজিও হয়। ধান কাটা সম্পন্ন হলে তিনি বোরো ধান রোপণের আগে সবজির চাষ করবেন।

কুমিল্লা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুবজিত চন্দ্র দত্ত বলেন, ‘চলমান করোনায় কুমিল্লার প্রত্যেকটি মাছে আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলায় এক লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমিনে রোপা আমনের আবাদে প্রায় ৩ লাখ ১২ হাজারের বেশি মেট্রিক টন ধান। তবে এবারের করোনার কারণে কৃষকদের নিয়ে নবান্ন উৎসব করতে পারিনি। তবে কৃষকরা এখন তাদের ধান বাড়িতে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*